Monday, March 21, 2016
Sunday, March 20, 2016
Saturday, March 19, 2016
Bus came for Shatabdi
মহিলাদের উঠতে দেওয়া যাবে না’, ‘মহিলা আসন খালি নেই’- প্রতিদিনের এমন অবজ্ঞা আজ আর শুনতে হয়নি। বরং বাসটাই অপেক্ষা করছিল মহিলাদের/নারীদের জন্য। সে বাসে প্রথমে শতাব্দী নামের সেই মেয়ে এবং তারপরে একে একে স্কুলগামী অন্য মেয়েরা উঠলো। পরে বাস ছুটে চললো।
মিনিস্টার! আই হ্যাভ এ কোয়েশ্চেন
মিনিস্টার! আই হ্যাভ এ কোয়েশ্চেন
ভিঁড়ের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলো শতাব্দী। সাংবাদিকদের প্রশ্ন শেষ হলে হাত উঁঠিয়ে সে বললো, ‘মিনিস্টার ওবায়দুল কাদের! আই হ্যাভ এ কোয়েশ্চেন!’
তখন শনিবার দুপুর ১২ টা। স্কুল ড্রেস পরিহিত মেয়েটির পিঠে বইয়ের ব্যাগ। রোদ থেকে বাঁচতে মাথায় আছে গোল ক্যাপ। হাঁটতে হাঁটতে চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় মেয়েটির প্রশ্ন হতবাক করে দেয় মন্ত্রীকে। মন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন- ‘হোয়াট ইজ ইয়োর কোয়েশ্চেন। আর ইউ জার্নালিস্ট!’ সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটির উত্তর- ‘নো! আই এম এ স্টুডেন্ট।
তখন শনিবার দুপুর ১২ টা। স্কুল ড্রেস পরিহিত মেয়েটির পিঠে বইয়ের ব্যাগ। রোদ থেকে বাঁচতে মাথায় আছে গোল ক্যাপ। হাঁটতে হাঁটতে চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় মেয়েটির প্রশ্ন হতবাক করে দেয় মন্ত্রীকে। মন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন- ‘হোয়াট ইজ ইয়োর কোয়েশ্চেন। আর ইউ জার্নালিস্ট!’ সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটির উত্তর- ‘নো! আই এম এ স্টুডেন্ট।
মন্ত্রী মেয়েটির সাহস আর কথা বলার শক্তি দেখে অভিভূত হয়ে প্রশ্ন করতে সাদরে সায় দিলেন।
মেয়েটি বললো, ‘আমি যখন স্কুলে আসি তখন ‘গুলিস্তান-আব্দুল্লাপুর ১২৩’ বাসগুলো মহিলা সিট নেই বলে উঠতে দেয় না। কন্ডাক্টররা বলেন, ‘আপনাদের উঠতে দেয়া যাবে না। তখন স্কুলে আসতে দেরি হয়ে যায়। আবার একইভাবে বাসায় ফিরতেও দেরি হয়। কখনো কখনো ক্লাসও মিস হয়।
তাহলে মহিলাদের জন্য আলাদা বাসের কি প্রয়োজন নেই?-মেয়েটির প্রশ্ন এটাই।
তখন মন্ত্রী বলেন, মহিলাদের জন্য বিআরটিসির আলাদা বাস আছে। তুমি কোথা থেকে কোথায় স্কুলে যাও
মেয়েটি বললো, ‘আমি যখন স্কুলে আসি তখন ‘গুলিস্তান-আব্দুল্লাপুর ১২৩’ বাসগুলো মহিলা সিট নেই বলে উঠতে দেয় না। কন্ডাক্টররা বলেন, ‘আপনাদের উঠতে দেয়া যাবে না। তখন স্কুলে আসতে দেরি হয়ে যায়। আবার একইভাবে বাসায় ফিরতেও দেরি হয়। কখনো কখনো ক্লাসও মিস হয়।
তাহলে মহিলাদের জন্য আলাদা বাসের কি প্রয়োজন নেই?-মেয়েটির প্রশ্ন এটাই।
তখন মন্ত্রী বলেন, মহিলাদের জন্য বিআরটিসির আলাদা বাস আছে। তুমি কোথা থেকে কোথায় স্কুলে যাও
মেয়েটি বললো শেওড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে এমইএস পর্যন্ত। মন্ত্রী মেয়েটির কাছ থেকে তার স্কুলে যাওয়ার সময় জেনে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই নির্দেশ দিলেন, রোববার থেকে সকাল সোয়া ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বিআরটিসির বাস এখানে থাকবে। চেয়ারম্যানকে বলে দাও একই সঙ্গে ১২৩ নম্বর বাসগুলো কেন মহিলাদের উঠতে দেয় না এ ব্যাপারে এখনই ব্যবস্থা নিতে।
মন্ত্রীর মুহুর্তের সমাধানে মেয়েটি আনন্দে মন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে চলে যায়।
কতো দিনের ক্ষোভ থেকে এই প্রশ্ন করলে তুমি? শতাব্দীর কাছে এমনটি জানতে চাইলে সে জানায়, যতদিন স্কুলে আসি ততদিন থেকেই মহিলাদের জন্য সিট নেই বলে স্কুলে যেতে দেরি হয়। অনেক সময় আমি উঠে গেলেও আমার বান্ধবীরা উঠতে পারে না। যে কারণে স্কুলেও মাঝে মাঝে বকা খেতে হয়। আর দেরী করে গেলে মাঝে মাঝে ক্লাসও মিস হয়ে যায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৩১৮ ঘণ্টা, মার্চ ১২, ২০১৬
মন্ত্রীর মুহুর্তের সমাধানে মেয়েটি আনন্দে মন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে চলে যায়।
কতো দিনের ক্ষোভ থেকে এই প্রশ্ন করলে তুমি? শতাব্দীর কাছে এমনটি জানতে চাইলে সে জানায়, যতদিন স্কুলে আসি ততদিন থেকেই মহিলাদের জন্য সিট নেই বলে স্কুলে যেতে দেরি হয়। অনেক সময় আমি উঠে গেলেও আমার বান্ধবীরা উঠতে পারে না। যে কারণে স্কুলেও মাঝে মাঝে বকা খেতে হয়। আর দেরী করে গেলে মাঝে মাঝে ক্লাসও মিস হয়ে যায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৩১৮ ঘণ্টা, মার্চ ১২, ২০১৬
Thursday, March 17, 2016
Tuesday, February 23, 2016
Monday, February 22, 2016
Sunday, February 21, 2016
ডিম সিগারেটের চেয়েও ক্ষতিকর !
ডিম সিগারেটের চেয়েও ক্ষতিকর !
ডিমের নানা পুষ্টিগুণের কারণে হঠাৎ মাথা ঘোরা, শরীরের দুর্বলতা দূর বা কোনো অসুখ থেকে সেরে ওঠার সময় রোগীর পথ্য হিসেবে প্রথমেই আমরা বেছে নেই ডিম। কিন্তু অধিক পুষ্টিকর এই খাবারটি আপনার দেহের জন্য সিগারেটের মতোই ক্ষতিকর হতে পারে। কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক তাদের গবেষণার মাধ্যমে এমনই তথ্য দিয়েছেন।
5 Real-Life Love Stories
Happily married couples look back on how their relationships began. (See, warm, funny love stories don’t happen only in the movies.)
Abigail and Dwayne Shoppa (pictured here)
Austin, Texas
Ages 29 and 33
Married nine months
Ages 29 and 33
Married nine months
Abigail: I never met men through my job (I’m a real estate investor). So instead I had the bad habit of reigniting old relationships, seeing if I could make them work
the second time around. In May 2010, my three sisters, with whom I’m very close,
Gladys: In 1948, when I was a high school senior, my girlfriend asked me to go with her and some other folks on a triple date. I told her, “I don’t go on blind dates.” Then she showed me a picture of Harold and I changed my mind. He was a college fella and so handsome!
On the evening we all planned to go to the movies, I was very excited. Harold came to the door to get me. But when we got to the car, where two other boys and two young ladies were waiting, Harold sat down and put his arm around another girl! I had to spend the evening with some other boy, who was full of himself. I did not have fun on that date.
Harold: I can’t remember why I chose another girl to be with that night, but, boy, I knew I had messed up. Bee—that’s what everyone calls Gladys—was very cute. She talked a lot and got along with everyone. After that evening, I called her three times and asked her out, but she kept turning me down. So I finally bluffed her out. I said, “If you don’t say yes, I’m not calling you anymore.”
Gladys: I agreed to go with him on a date, but only because I wanted to punish him for messing up and not choosing me that first night. My plan was to spend the evening being totally indifferent.
Harold: Thankfully, she changed her mind.
Gladys: We went to a drive-in movie, then had po’boys and curlicue potatoes afterward. I saw that Harold was smart and very kind. And he had a red convertible. That was big stuff back then. After a few dates, it grew into true love.
Harold: Two years later, in 1950, when I was 25 and Bee was 20, we went to the local courthouse and got married. But we kept it a secret, because Bee’s parents thought that she was too young.
Gladys: I was living at home and going to business school while Harold was studying to become a dentist. I hid the marriage certificate in my bedroom. Two weeks later, my mother found it when she was cleaning my room. Shocked, she called the justice of the peace and asked him, “Did you marry my daughter?” My parents came around, though. They liked Harold. He’s a good fella.
Harold: I learned early on to always ask Gladys what she would rather do. That’s one secret to our marriage: I don’t pretend to be a know-it-all.
Gladys: Harold has always put me first. After we got married, he wouldn’t go golfing at the country club with the other men. He would play with me. I love that about him.
Harold: Gladys has brought out the best in me by giving me unconditional support.
Gladys: Harold and I still enjoy each other’s company more than anyone else’s. We can’t play golf anymore, but we like to watch tournaments together on TV. And we’ve always been big Louisiana State University football fans, so we never miss a game. Oh sure, we still get mad at each other, but we try not to get mad at the same time.
Harold: There’s not enough love in this world, so you can’t lose when you meet someone like Bee. I am very lucky.
ব্যস্ত জীবনে
![]() |
loveislifestory.blogspot.com
আনিস সাহেব বসে আছেন তাঁর মেয়ে সাদিয়ার ঘরে। শ্বশুড় বাড়ি। মেয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করায় গত এক বছর ধরে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। আজ এসেছেন। দীর্ঘ এক বছর মেয়ের ওপর রাগ ধরে রেখেছিলেন। ভেবেছিলেন জীবনের বাকি ক’টা দিনও না দেখে পার করে দিতে পারবেন। কিন্তু শেষ মেষ আর পারলেন না।
খুঁজে খুঁজে চলে এলেন মেয়ের বাড়িতে হুট করে। বেয়াইন বাড়িতে খালি হাতে যাওয়া খারাপ। তাই আসার সময় তিন কেজি মিষ্টি আর দুই কেজি জিলাপি নিয়ে এসেছেন। ইচ্ছা ছিল বাজার থেকে মাছ টাছ কিছু একটা কিনে নেবেন। কিন্তু প্রথম বার যাচ্ছেন ভেবে আর মাছের বাজারে ঢুকতে গেলেন না। বাড়ির লোকজনের সঙ্গেই পরিচয় নেই তাঁর, এভাবে হুট করে যাওয়াটা নিয়েই ভেতরে ভেতরে দো-টানায় ছিলেন তিনি, তাই বেশি কিছু নিতে পারেননি।
নতুন মাড় দেয়া সাদা পাঞ্জাবীটা এর মধ্যেই ঘেমে পিঠের সঙ্গে লেগে গেছে। সাদিয়ার থাকার ঘরটায় সিলিং ফ্যান নেই। একটা টুলের ওপর টেবিল ফ্যান রাখা। বসেছেন বিছানায়। ফ্যানটা এতক্ষণ চলছিল- একটু আগে কারেন্ট চলে গেছে। ভর দুপুরের কাঠ ফাটা রোদে টিন সেডের বাড়িটা যেন চুলার মত গরম হয়ে উঠছে ক্রমশ। প্রচন্ড রোদ পড়ায় টিন ফাটার শব্দ হচ্ছে, হঠাৎ করে শব্দটা শুনলে মনে হয় যেন বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। অনেক দিন এই শব্দটা শোনেননি আনিস সাহেব। তাঁর বাড়ির ছাদ ঢালাই করা।
বিছানায় পা উঠিয়ে বসতে ইচ্ছে করছে, ঘরে কোনো চেয়ার-টেবিল নেই। সামনে বসার ঘরে সোফা আছে। কিন্তু সেখানে অন্য মেহমান এসেছে বলে সাদিয়া তাঁকে নিজের ঘরে নিয়ে এসেছে। মেয়ের বিছানায় বসে দর দর করে ঘামছেন তিনি। সাদিয়া একটা হাত পাখা ধরিয়ে দিয়ে কোথায় যে গেছে- আসার আর নাম নেই।
মেয়ের থাকার ঘরটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন তিনি মাথার ওপর বাঁশের চাটাইয়ের সিলিং। এখানে সেখানে মাকড়শার জাল। বিছানার স্ট্যান্ড থেকে গাদা গাদা কাপড় ঝুলছে। এক কোনায় একটা ছোট কাঠের পুরনো ঘূণে ধরা আলমারী। আলমারীটা একদিকে কাত হয়ে রয়েছে। নিচে ইট দেয়া, তবুও হেলে আছে। মনে হয় ঘূণে নিচেরইয়েক পাশ খেয়ে ফেলেছে। বেশ ছোট একটা ঘর। বাড়িটা বেশি বড় না। তবে মানুষ জন অনেক। তার মাঝেই সাদিয়া যতটা পেরেছে নিজের ঘরটা গুছিয়ে নিয়েছে।
হাত পাখাটা দিয়ে বাতাস করেও লাভ হচ্ছে না। ঘেমে নেয়ে গেছেন আনিস সাহেব। বিছানার কাছের জানালাটা দিয়ে গত আধ ঘন্টা হল কড়া রোদ ঢোকা শুরু করেছে। বিছানার বালিশ, তোশক- সব তেঁতে উঠেছে প্রচন্ড রোদে। জানালাটা বন্ধ করে দিলে ভাল হত। কিংবা বিছানাটা এপাশে না রেখে অন্য পাশে রাখলে রোদ পড়ত না। দুপুরের দিকে মানুষ খেয়ে একটু ঘুমায়- সে সময় যদি বিছানায় এ রকম রোদ পড়ে- ঘুমানো তো দূরের কথা- শোয়াই সম্ভব না, সাদিয়া থাকে কি করে?
হঠাৎ পায়ের শব্দ পেয়ে ঘুরে ফিরে তাকালেন তিনি। সাদিয়া ঢুকেছে, হাতে একটা গ্লাস, পিরিচ দিয়ে ঢাকা। এসে বাবার দিকে বাড়িয়ে দিল গ্লাসটা।
আনিস সাহেব সপ্রশ্ন চোখে তাকালেন, “কি?”
“শরবত। লেবুর। বাড়িতে ফ্রিজ নেই বাবা। থাকলে ফ্রিজের পানি দিয়ে বানিয়ে দিতাম।”
গ্লাসটা হাতে নিতে নিতে জিজ্ঞেস করলেন, “বসার ঘরে এত মেহমান কোথাকার?”
“মেহমান না। মুহূরি এসেছে। আমার ভাসুর এনেছেন। জায়গা জমি ভাগাভাগি নিয়ে কথা বার্তা চলছে।” শাড়ির আঁচল দিয়ে গলার ঘাম মুছতে মুছতে বলল সাদিয়া।
“দাঁড়িয়ে না থেকে বোস।” গ্লাসের শরবতটা ঢক ঢক করে খেয়ে ফেললেন এক চোটে।
সাদিয়া হাত পাখাটা নিয়ে বাবার সামনে বসল। আনিস সাহেবকে বাতাস করতে করতে বলল, “এই বাড়িতে চব্বিশ ঘন্টা কোনো না কোনো মানুষ থাকবেই। সারাক্ষণ এলোক সে লোক আসা যাওয়া করছে। মানুষের ভীড়ে মাঝে মাঝে অতিষ্ট হয়ে যাই। চা বানাতে বানাতে বড় ভাবী, মেজ ভাবী আর আমি আসল রান্না বান্না করারই সময় পাই না।”
“কয় ঘর লোক থাকে?” আনিস সাহেব জানালা দিয়ে বাহিরের কড়া রোদের দিকে তাকিয়ে বললেন।
“তিন ঘর। আমার দুই ভাসুরের ফ্যামেলি, আর তোমার জামাইয়ের।”
“বাচ্চা কাচ্চা আছে ওদের?”
“হ্যা। বড় ঘরে তিনটা। মেজ ঘরে দুটো।”
“তোর শ্বশুড় শ্বাশুড়ি?”
“গত বছর মারা গেছে শ্বাশুড়ি। আর শ্বশুড় আব্বা মারা গেছেন বারো তেরো বছর হল।”
“শ্বাশুড়িকে পেয়েছিলি? নাকি তার আগেই মারা গেছে?”
“নাহ, পেয়েছিলাম তো। বিয়ের দু সপ্তাহের মাথায় মারা গেলেন।”
“অ।” চুপ হয়ে গেলেন তিনি।
সাদিয়া অন্য দিকে তাকিয়ে একটানা বাতাস করে যাচ্ছে আনিস সাহেবকে। পিতা কন্যায় এতদিন পর দেখা হওয়ার পরও এমন ভাবে কথা বলছে দেখে মনে হচ্ছে কিছুই হয়নি। আনিস সাহেবের খুব অবাক লাগছে। তিনি এত স্বাভাবিক হয়ে কথা বলতে পারছেন কিভাব?
বসার ঘর থেকে তর্কা তর্কির শব্দ আসছে। মনে হচ্ছে জমি জমা নিয়ে কথা কাটা কাটি হচ্ছে।
খানিকক্ষণ চুপ থাকার পর আনিস সাহেব বললেন, “তোর ঘরে তো দেখি কোনো ড্রেসিং টেবিল নেই। তোর রূমেরটা নিয়ে আসিস, পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে অযথা।”
ক্লান্ত একটা হাসি হাসল সাদিয়া, “আর ড্রেসিং টেবিল......... বাড়ির রান্না বান্না এখন কে করে বাবা?”
“তোর ছোট ফুফুকে নিয়ে এসেছি। ও স্কুলে মাষ্টারি করে, বাসায় রান্না বান্নার কাজটাও করে দেয়।”
“ও।” সাদিয়া চুপ হয়ে গেল।
আনিস সাহেব লক্ষ করলেন মেয়ের দু হাতে দুটো প্লাস্টিকের চুড়ি, গলায় কিংবা কানেও কোনো সোঁনার কিছু নেই।
“জামাই কি করে এখন?”
“এই টুকটাক ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। শেয়ারে ব্যবসা করে।” হাতের নখের দিকে তাকিয়ে বলল।
“তোর গলা আর কানের জিনিস পত্র কই? চেনটা পরিস না আর?” সামান্য সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করলেন। মেয়ে ইন্টার পাস করার পর স্ট্যান্ড করেছে দেখে একটা সোঁনার চেন বানিয়ে দিয়েছিলেন। লকেটে সুন্দর করে সাদিয়ার নাম লেখা ছিল সেটায়।
“পরি তো। এই ঘরের মঢ্যে কে দেখতে আসবে? তাই খুলে রেখেছি। গরমের মধ্যে গলায় চেন দিয়ে রাখলে অস্বস্তি লাগে খুব।” অন্য দিকে তাকিয়ে দায়সারা জবাব দিল সাদিয়া।
আনিস সাহেব আর কিছু বললেন না। সাদিয়ার মা বেঁচে থাকলে এতক্ষণে নিশ্চই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে হাজারটা প্রশ্ন করতেন মেয়েকে। জামাই তারে কখন ফেরে? জামাই কি আদর যত্ন করে ঠিক মত? ঘুরতে নিয়ে যায় তাকে? গলার আর কানের সোঁনা দিয়ে কি জামাই ব্যবসা করেছে? নাকি বন্ধক? নানান প্রশ্ন। কিন্তু আনিস সাহেব এত কথা বলতে পারেন না। মা মেয়েতে যতটা সখ্যতা ছিল- পিতা কন্যায় ঠিক উল্টোটা হয়েছে। তাই হাজারটা প্রশ্ন মনে নিয়ে চুপ করে বসে রইলেন আনিস সাহেব। কারেন্ট এসেছে। টেবিল ফ্যানটা শব্দ করে এদিক ওদিক ঘুরে বাতাস দিচ্ছে। তবুও তিনি ঘামছেন দরদর করে।
০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
বিছানার ওপর একটা প্লাস্টিক বিছিয়ে দিয়েছে সাদিয়া। সেখানে ভাত খাচ্ছেন আনিস সাহেব। ডাইনিং টেবিলে খেয়ে তাঁর দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। এভাবে ঝুঁকে খেতে সমস্যা হচ্ছে, পেটে চাপ লাগছে- কিন্তু কিছু বললেন না মেয়েকে। সাদিয়া হাত পাখা দিয়ে বাতাস করে যাচ্ছে বাবাকে। টেবিল ফ্যান ছাড়া, তবুও বাতাস করছে। আনিস সাহেব একবার ভাবলেন বলবেন বাতাস না করতে- কিন্তু বললেন না।
খাবারে তরকারির পদ মাত্র দুটো। সরপুঁটির ঝোল আর ডিম ভাজা। আর কিছু নেই। আনিস সাহেবের খেতে অসুবিধা হচ্ছে। এত শুকনো খাবার খেতে ভাল লাগে না তাঁর, ডাল না হলে গলা দিয়ে ভাত নামতে চায় না।
সাদিয়া নিচু গলায় বলল, “খেতে খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না বাবা? ডাল শেষ হয়ে গেছে। থাকলে বানিয়ে দিতাম। তুমি তো ডাল ছাড়া খেতেই পারো না। জলপাইয়ের আঁচাড় আছে, দেই?”
আনিস সাহেব জবাব দিলেন না, কেবল বললেন, “জামাই দুপুরে খেতে আসে না?”
“আসে মাঝে মাঝে। বেশির ভাগ সময়েই আসে না।” হাত পাখাটা বিছানায় রেখে আলমারীর দিকে চলে গেল। আনিস সাহেব দেখলেন আলমারী খুলে সাদিয়া একটা বড় আঁচাড়ের বোয়ম বের করেছে। একটা চামচ আছে সাথে। আলমারীর পাল্লা দুটো আবার লাগিয়ে দিয়ে ফিরে এলো তাঁর কাছে। বোয়মের ঢাকনা খুলে চামচ দিয়ে আঁচাড় বের করে বাবার প্লেটে তুলে দিল।
“নাও। খেয়ে দেখো। আমি বানিয়েছি।” আনিস সাহেবের সামনে বসল। হাতপাখাটা হাতে নিয়ে আবার বাতাস করতে লাগল।
“ফ্যান তো চলছে। বাতাস করিস না।” আঁচাড় দিয়ে খেতে ভালই লাগছে। তাঁর স্ত্রী রাহেলা বেগমও খুব ভাল আঁচাড় বানাতে পারতেন। মায়ের হাত পেয়েছে মেয়ে।
খেতে খেতে হঠাৎ আবিষ্কার করলেন সাদিয়া অন্য দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এদিকে তাকাচ্ছে না। একটা নিঃশ্বাস ফেললেন আনিস সাহেব। তিনি জানেন সাদিয়া কান্না চাপার চেষ্টা করছে। ওর মাও কাঁদার সময় অন্য দিকে তাকিয়ে থাকত। বিশেষ করে খেতে বসলে।
সাদিয়া অন্য দিকে ফিরে বিছানার স্ট্যান্ড ধরে নখ দিয়ে দাগ কাঁটছে স্ট্যান্ডে এক ভাবে। খেতে খতে আনিস সাহেব শুনতে পেলেন, নিচু গলায় সাদিয়া বলছে, “বাবা? আমাকে ছাড়া থাকতে তোমার অনেক কষ্ট হয়- তাই না?”
আনিস সাহেব খেয়ে যাচ্ছেন। কোনো কথা বললেন না।
চাপা গলায় কান্না প্রকাশ পেল সাদিয়ার, “ও বাবা? আমি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছি বলে খুব কষ্ট পেয়েছো?”
আনিস সাহেবের ভাতের ওপর হাত ধোয়ার অভ্যাস নেই। মোটেও পছন্দ করেন না এটা। ছোট বেলায় সাদিয়া ভাতের ওপর হাত ধুয়ে ফেলত দেখে অনেক মার দিতেন। কিন্তু আজ নিজেই অর্ধেক খেয়ে ভাতের ওপর হার ধুয়ে ফেললেন। সাদিয়া হাত ধোয়ার শব্দ পেয়ে তাড়াতাড়ি চোখ মুছে এদিকে তাকাল। অবাক হয়ে বলল, “একি! তুমি তো কিছুই খাওনি!”
“পেট ভরে গেছে মা। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য বেশি কিছু খাই না ইদানীং।” গম্ভীর গলায় বললেন।
সাদিয়া কিছু বলল না। হাত মোছার জন্য গামছা এগিয়ে দিল। আনিস সাহেব হাত মুছে উঠে দাঁড়ালেন।
“দাঁড়ালে যে? বসো।”
“নাহ। আজ যাই। তোর ফুফু বিকাল তিনটার দিকে ফেরে। তালার চাবি আমার কাছে। গিয়ে খুলে দিতে হবে। দেরি হয়ে যাবে নয়ত।” মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। পাঞ্জাবীর পকেট থেকে তিন হাজার টাকা বের করে সাদিয়ার হাতে ধরিয়ে দিলেন জোর করে, “কিছু ইচ্ছা করলে কিনে খেয়ে নিস। বাড়ি ভরা লোকের মাঝখানে হয়ত অনেক কিছুই খেতে ইচ্ছা করে তোর, পারিস না।” সাদিয়া নিতে চাইল না, কিন্তু আনিস সাহেব শক্ত করে ওর হাতে গুজে দিলেন নোট গুলো। তারপর আবার মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে দরজার দিকে পা বাড়ালেন।
“বাবা?” পেছন থেকে ডাকল সাদিয়া।
“কিছু বলবি?” ফিরে তাকালেন, সাদিয়া বিছানায় এখনো বসে আছে। মুখ নিচু করে রেখেছে।
আনিস সাহেব দাঁড়িয়ে রইলেন মেয়ের জবাবের অপেক্ষায়। কিন্তু কোনো কথা বলছে না সাদিয়া। ফিরবেন আবার দরজার দিকে, হঠাৎ উঠে এসে দু হাত দিয়ে আনিস সাহবের পা জড়িয়ে ধরল সাদিয়া শক্ত করে। তিনি প্রস্তুত ছিলেন না ব্যাপারটার জন্য। জমে গেলেন একদম। টের পাছেন সাদিয়ার নিঃশব্দ অশ্রু জল ফোঁটায় ফোঁটায় তার পায়ের ওপর পড়ছে....
শুনতে পাচ্ছেন সাদিয়া কান্না ভেজা গলায় খুব নিচু স্বরে বলছে, “ও বাবা? তুমি কথা বল না কেনো? ও বাবা? আমি বুঝিনি আমি কি ভূলটা করেছিলাম তোমার কথা না শুনে। তাই বলে আমার সাথে ঠিক করে কথা বলবে না? ও বাবা? আমার অনেক কষ্ট লাগে তো..... এখানে আমার সাথে দু দ্বন্দ্ব বসে কথা বলার মানুষ নেই। সবাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত...... তোমার জামাই রাতের পর রাত বাড়িতে ফেরে না। আমি একে একা থাকি এখানে..... সবাই খুব ব্যস্ত জানো বাবা? আমাকে কেউ চাকরী করতে দেয় না। ঘরে চাল থাকে না , তাও আমাকে চাকরী করতে দেয় না। নিজেরাই সব...... বাবা? ও বাবা? কথা বল না? কত দিন পর দেখলাম তোমাকে। একটু কথা বলো না আগের মত? ও বাবা?”
আনিস সাহেব মূর্তির মত দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
“আমি না হয় তোমাকে কষ্ট দিয়ে একটা অন্যায় করেছি- তাই বলে তুমি ঠিক মত কথা বলবে না? বাবা?”
আনিস সাহেব খুব সাবধানে একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করলেন, মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে বললেন, “আমি জানি কেমন হয়ে গেছিরে মা। বেশি কথা বলতে পারি না আগের মত। তোকে দেখে গেলাম- এটাই বড় পাওয়া আমার জন্য। কোন দিন হুট করে মরে টরে যাই..... আস্তে আস্তে সবাই নিজের জগতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। প্রথমে তোর মা চলে গেল। এখন তুই তোর জীবনে ব্যস্ত হয়ে গেলি। আমার অনন্ত অবসর কেবল....... অবসরের ধকলে পড়ে আসলে কথা বলার শক্তিটা হারিয়ে ফেলেছি। তুই ভাল থাকিস। তোর বাচ্চা কাচ্চা হলে ওদেরকে এমন ভাবে মানুষ করিস যাতে ওরা অল্প সময়ের সম্পর্কের টানে দীর্ঘ সময়ের সম্পর্কটাকে না ছেঁড়ে। কারণ জন্মের পর থেকে একটু একটু করে ছোট একটা বাচ্চাকে মানুষ করতে কতটা মমতা লাগে- সেটা কেউ জানে না- যখন হঠাৎ করে সম্পর্কে ভাঙ্গন লাগে- তখন বোবা কষ্টের মাঝে বোঝা যায় কত গভীরে শেকড় গেঁথেছিল যে উপড়ে ফেলতে গিয়ে সবটাই মরে গেছে.......”
সাদিয়া কেঁদে যাচ্ছে এখনো। আনিস সাহেব অবাক হয়ে আবিষ্কার করলেন তার চোখে পানি জমছে না আর আগের মত। কে জানে, এক জীবনের সমস্ত অশ্রু জল ফুরিয়ে গেছে তাঁর। এখন কেবল শূণ্যতা......
আনিস সাহেব মেয়ের বাসা থেকে বের হলেন যখন তখন প্রচন্ড রোদে সমস্ত নগরী দগ্ধ প্রায়। রাস্তার পিচ গলে গেছে। হাটার সময় সেন্ডেলের নিচে লেগে যাচ্ছে গরম পিচ। তার মাঝ দিয়েও নির্বিক চিত্ত্বে হেটে যাচ্ছেন তিনি। চারপাশে রিক্সা আর বাস, ট্রাকের ভীড়। ফুটপাথ দিয়ে অগণিত মানুষের ছুটে চলা। সবাই ব্যস্ত। সবাই ছুটছে যার যার ঠিকানায়, যার যার লক্ষে। কিন্তু তার মাঝেও চারপাশের ব্যস্ততা ছাপিয়ে অদ্ভূত একটা নৈশব্দময় হাহাকার টের পাচ্ছেন আনিস সাহেব...... ব্যস্ত নগরে জীবনের হাহাকার। সবাই টের পায় না, কেবল তারাই পায়- যাদের রয়েছে অনন্ত অবসর.......
( সমাপ্ত )
একটা লাইন কদিন থেকেই মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও গল্পের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও দিয়ে দিলামঃ
মৃত্যু আর অমরত্বের মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই। অমরত্বের সঙ্গে জীবনের পায়ের ছাপের সম্পর্ক রয়েছে। আপনার পদচারণা কতটা দৃপ্ত ছিল- সেটাই নির্ধারণ করবে আপনার অমরত্বের সম্ভাব্যতা।
উৎসর্গঃ
ma আমার দেখা পৃথিবীর সব চাইতে খাঁটি মানুষটি। যিনি আমাকে পৃথিবীটাকে তার নিষ্পাপ চোখ দিয়ে দেখতে শিখিয়েছেন। আমি অপেক্ষায় আছি, এক দিন আমি তোমার মত হবো।
একটু একটু ভাল লাগা... তারপর শুধুই ভালবাসা
একটু একটু ভাল লাগা... তারপর শুধুই ভালবাসা
কলেজের প্রথম বছর ছিল… পরিচয় হল… বন্ধুত্ব হলো… ভাল লাগলো… তারপর প্রেম নিবেদন…
তারপর শুধুই ভালবাসা| নাহ্! এত নিরামিষ ছিল না আমাদের গল্প| এত নিরামিষ হলে
হয়তো এভাবে সাতটা বছর পার করে দিতে পারতাম না দুজনে|
সেই সাত বছর আগের কথা… কিছুদিন হলো কলেজে ভর্তি হয়েছি| হঠাৎ অপরিচিত কারো একটা
ই-মেইল নজরে পরলো| খুব সহজ একটা ধাঁধা লেখা ছিল ই-মেইলে| সাথে একটা মোবাইল
নাম্বারো ছিল, আর লেখা ছিল যদি ধাঁধার উত্তর জানা থাকে তাহলে যেন সেই নাম্বারে
পাঠিয়ে দিই| ধাঁধার উত্তর লিখে পাঠিয়ে দিলাম আর জানতে চাইলাম তার পরিচয়, তবে ই-
মেইলের উত্তর ই-মেইলেই… মোবাইলে দিয়ে নিজের মোবাইল নাম্বারটা একটা অপরিচিত
মানুষকে দিয়ে বিপদে পরবো নাকি!!?? কিছুদিন পর আবিষ্কার করলাম ছেলেটা আমার
সেকশনেরই! কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না কে সেই শাখামৃগ যে আমাকে এত
দুশ্চিন্তায় ফেলে দূরে বসে মজা নিচ্ছে!!?? পরে জানতে পারলাম যার দিকে কখোনো
চোখই পরেনি, যার নামটাও কখোনো জানা হয়ে ওঠেনি ছেলেটা সেই… সানিয়াত… সানিয়াত
মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন|
বন্ধুত্ব হলো… খুব ভাল বন্ধুত্ব হলো… রাতে মোবাইলে কথা না বললে চলতোই না… ধীরে
ধীরে কখোন যে বন্ধুত্বটা দুর্বলতা হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না! হয়তো নিজেকে বা
ওকে বুঝতে দিতে চাইতাম না অনুভূতিটা| ভয় হতো… যদি বন্ধুত্বটাই হারিয়ে ফেলি!?
তবু মনের মাঝে কোন এক কোণায় হালকা ব্যথা অনুভূত হতো, যখোন ও ঐ সেকশনেরই সবচেয়ে
সুন্দর মেয়েটার কথা বলতো| হালকা ব্যথা বললে বোধহয় ভুল হবে… আগুনের একটু আঁচ
লাগলেই যেমন জ্বলা শুরু করে… আমারো তখোন ভেতরটা জ্বলতো! একটা কথা আছে না… “বুক
ফাটে তাও মুখ ফোটেনা”… ঠিক ঐ রকম!
জানুয়ারী ২০০৫ থেকে ডিসেম্বর ২০০৫… আমাদের বন্ধুত্ব আরো গাড়ো হলো… আমাদের ছোট
খাট পছন্দ অপছন্দ শেয়ার করা হলো| যদিও আমাদের ক্লাসমেটদের ধারণা আমরা তখোন
থেকেই প্রেম করি| ধারণাটা আরো গাড়ো হয়েছিল যখন ও ক্লাসের একটা ছেলেকে আমাকে
উত্তক্ত করার জন্য ঝাড়ি দিয়েছিল| ধারণাটা নি্শ্চিত সন্দেহের রূপ নেয় যখন আমি ওর
হাতে কলেজের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে একটা চিঠি ধরিয়ে দিই| চিঠিতে কি লিখেছিলাম মনে
নেই, তবে সেটা কোনো প্রেমপত্র ছিল না এটা নিশ্চিত… সেটা ছিল ওর ওপর আমার
অভিমানের বহিঃপ্র্রকাশ মাত্র| ও আমাকে এখন প্রায়ই বলে চিঠিতে নাকি অসংখ্য বার
আমি লিখছলাম “আমি তোমার খুব ভাল Friend হিসেবে বলছি…”| সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিলো...
চিঠিটা ওর পকেটে ছিল... বৃষ্টিতে আমার চিঠিটা নাকি ভিজে একাকার|তার কিছুদিন পর
আমি আমার ২য় বর্ষে কলেজ বদলিয়ে ফেললাম| ফিরে গেলাম আমার স্কুলেরই কলেজ শাখায়|
তারপর আমার মোবাইল হারিয়ে গেল… সাথে ওর নাম্বারটাও| সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ|
মাঝেমাঝে ই-মেইল Check করতাম… যদি ও কিছু পাঠায়… কিন্তু দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কিছুই
পেতাম না| নিজেকে সান্তনা দিতাম… এই বুঝি ভাল হলো… Out of sight, out of mind!
পর্ব : ২
জানুয়ারী ২০০৬ থেকে ২০০৬ ডিসেম্বর… এর মাঝে অনেক উত্থান পতন হয়েছে দুজনেরই…
এসেছে কিছু পরিবর্তন… ৪ বছর বয়স বেড়েছে… কলেজ শেষ হয়েছে… ২০০৭ এর জানুয়ারী থেকে
আমি মেডিকেল ছাত্রী হয়েছি আর ও হয়েছে ইঞ্জিনীয়ার ছাত্র| তখনো মাঝেমাঝে ই-মেইলCheck
করতাম… হঠাৎ ২৯ জানুয়ারী ২০০৭ একটা ই-মেইল নজরে পরলো… from Md. Sarwer
Hossain| আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না| ই-মেইলটা ওর নতুন Address থেকে
পাঠিয়েছিল ওর Contact list এর সবাইকে| আমি আর সবাই এক হলাম!? এই ভেবে আর Reply
করা হলোনা| তারপর ২১ ফেব্রুয়ারী ২০০৭ আরেকটা ই-মেইল এলো| ই-মেইল পড়ে প্রথমে খুব
রাগ হলো… কারণ as usual সেখানে আমাকে Jealous করানোর মত কথা লেখা ছিল| ই-মেইলের
শেষ লাইন গুলো ছিল এরকম “SunSi dr ri porteSo khubi valo. amr amma Sune khub
khuSi hoiSe. kau dr hoiSe Sunle amma khuSi hoya jay, amder aaSe paSe Sob to
enginr tai. ajk to monehoy tmr bondo. ok valo thako.... bye… connection
raikho amak vuila gaSo ? ? ! ? ! ! ! ?” তখন কেন জানি আর রাগ করে থাকতে পারলাম
না… reply একটা করেই দিলাম| তারপর আবার শুরু হলো যোগাযোগ| ও যেমন আমাকে প্রায়ইJealous
করানোর মত কথা বলতো আমিও ওকে সব সময় Jealous করার চেষ্টা করতাম… কিন্তু ওর কোনো
প্রতিক্রীয়াই ছিলনা! খুব রাগ হতো আমার!
২০০৮ এর ১৩ ফেব্রুয়ারী… আমি ওকে “Yahoo!” তে Chat-এ বেশ ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“আচ্ছা, তোমার কাল কি কোনো Programme আছে?” ও বললো, “নাহ্, কাল কি Programme
থাকবে? কেন থাকবে?” আমি বললাম, “তাহলে আমরা কি কাল TSC-তে দেখা করতে পারি?” আমি
ভেবেছিলাম ও “না” বলবে| কিন্তু ও বললো “হ্যাঁ”!! বলে আমার বিপদ বাড়িয়ে দিল|
প্রচন্ড রকমের ভয় ভর করলো মাথায়| এতই ভয় আর উত্তেজনা পেয়ে বসলো আমায় যে আমার
হারিয়ে যাওয়া মোবাইলের সাথে যে ওর মোবাইল নাম্বারটাও যে হারিয়ে গিয়েছে সেটাও
ভুলে গিয়েছিলাম| আর হঠাৎ করে ওর নাম্বারটাও কিছুতেই মনে পড়ছিল না| কিন্তু
ততক্ষনে আমরা Sign out করে ফেলেছি| হঠাৎ মনে পরলো একটা ডায়রীতে ওর নাম্বার লিখে
রেখেছিলাম, কিন্তু কোনো লাভ হলোনা… ডায়রীটা খুঁজে পেলাম না| তাই ১৪ ফেব্রুয়ারী
২০০৮ TSC যাওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বইমেলার মানুষের ভীরে আমরা দুজন দুজনকে
খুঁজে পেলাম না| পরদিন “Yahoo!” তে ও আমাকে নাম্বার দিল… ঠিক হল ১৭ ফেব্রুয়ারী
দেখা করবো| আবারো সেই ভয় আর উত্তেজনা পেয়ে বসলো আমায়|
১৭ ফেব্রুয়ারী ২০০৮… তখন আমি হোস্টেলে থাকতাম| TSC গেলাম… একমাস ব্যাপি বইমেলা…
প্রচন্ড মানুষের ভীর| আমি পৌঁছেই ওকে ফোন দিলাম… ও কাছেই কোথাও ছিল… ৫ মিনিট
অপেক্ষা করতে বললো| এই ৫ মিনিটে আমার ভয় ক্রমোশ বেরেই চললো| মাথায় কত চিন্তা ভর
করলো! এই প্রথম আমি আর ও কোথাও এভাবে দেখা করতে যাচ্ছি… কতদিন পর দেখবো ওকে… ২
বছরের বেশি… ও কি পাল্টে গেছে… নাকি সেই আগের মতই আছে… ওকে চিনতে পারবো তো বা ও
আমাকে চিনতে পারবে তো!? এরকম কত ভয়…! তারপর অতি প্রতিক্ষীত ৫ মিনিট শেষ হলো…
দূর থেকে দেখেই চিনতে পারলাম ওকে| নাহ্! খুব বেশি পাল্টায়নি ও… তবে একটু মোটা
হয়েছে… মোটা বললেও ভুল হবে… স্বাস্থ্যটা একটু ভাল হয়েছে| ও কাছে এলো… আসার পর
আমি কিছুতেই ওর দিকে তাকাতে পারছিলাম না| ভয় অথবা লজ্জা… কিছু একটা কাজ করছিল|
লজ্জা পাচ্ছিলাম হয়তো লজ্জা নারীর ভূষণ বলে, আর ভয়… কারণ… ও যদি বুঝে ফেলে আমার
দুর্বলতা! সন্ধ্যা ৭.৩০ টা পর্যন্ত ছিলাম ওর সাথে| ও ওর স্বভাব সুলভ খুব নরমাল
আচরণ করছিল, আর আমি খুব চেষ্টা করছিলাম নরমাল হওয়ার… কিন্তু ব্যর্থ চেষ্টা! ও
আমাকে রিকশায় করে হোস্টেলে পৌঁছে দিয়ে গেল| হোস্টেলে ফেরার পর থেকে শুধু মনে
হচ্ছিল ও কিছু বুঝলো না তো!!?? সত্যিই তাই… ও সেদিন বুঝে গিয়েছিল… কিন্তু ও
আমাকে বুঝতেই দেয়নি যে ও বুঝতে পেরেছে|
একদিন কথায় কথায় মনে পড়লো আমি ওকে কলেজে থাকতে জোড়া ডলফিনের একটা শো-পিস Gift
করেছিলাম| লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম… কি নির্লজ্জ মেয়েরে বাবা আমি! ও বললো ওটা নাকি
তখনি ওর Friend দের বিশেষ কৌতুহলের কারণে দুই টুকরা হয়ে গিয়েছিল| সাথে সাথে
আমার মনটাও দুই টুকরা হয়ে গেল| তারপর ও বললো সেটা নাকি ও আঠা দিয়ে জোড়া
লাগিয়েছে… তখন থেকে সেটা ওর Aquarium এ শোভা পাচ্ছে| এই কথা শোনার পর আমার মন
তো জোড়া লাগলোই… মনে হলো কোথা থেকে যেন হালকা একটা হাওয়া স্বজোরে একটা দোলা
দিয়ে গেল| মনে হলো… তাহলে কি ওর ও মাঝে দুর্বলতাটা কাজ করে!!?? তারপর থেকে আবার
শুরু হলো আমার “Mission : Making Him Jealous”| এবার বোধহয় কাজ হলো…
৩০ জুন ২০০৮… নাহ্! ১ জুলাই ২০০৮… ৩০ জুন ২০০৮ রাত ১২টার পর… সকালেই আমারAnatomy Prof Written exam|
ও আমাকে চমকে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “অনু, তুমি কি কোনো কারণে আমার প্রতি Weak?”
যার সত্যিকার অর্থে মানে ছিল, “অনু, তুমি কি আমাকে ভালবাসো?” আমি কি উত্তর দিবো
ভেবে পাচ্ছিলাম… আমার কি বলা উচিত যে আমি শুরু থেকেই Weak!!?? আমি বললাম… “কি
হবে জেনে? তোমার কাছে আমার সব Problem এর Solution আছে, কিন্তু এই উত্তরের
কোনো Solution নেই”| ও বললো… “বলেই দেখো… থাকতেও তো পারে”| আমি বললাম… “হ্যাঁ,
আছে তোমার কাছে কোনো Solution?” ও বললো… “এভাবেই চলতে থাকি… কপালে থাকলে হবে”|
নিজেকে খুব ছোট মনে হলো… মনে হলো “হে ধরণী! তুমি দ্বিধা হও, আমি তোমার ভেতর
প্রবেশ করি”!
পর্ব : ৩
ভাবলাম এবার বুঝি বন্ধুত্বটাও হারালাম! ভাবলাম আমার ধারণা বোধহয় ভুল ছিল|
কিন্তু না কিছুই শেষ হয়নি| ও খুব সহজেই যেকোনো ব্যপার সহজ করে ফেলতে পারে| আমরা
আবার আমাদের চিরাচরিত Friendship-টাকেই ধরে রাখলাম|
২০ অগাস্ট ২০০৮… পরীক্ষা শেষে বাসায় আসলাম| ঐদিন রাতেও ১২টার পর ফোনে কথা হলো|
হঠাৎ ও আমাকে বললো, “আচ্ছা অনু, ঐ যে ঐ টা একটু বলোতো”| আমি বললাম, “কি বলবো?”
ও বললো, “ঐ যে তুমি যেটা Feel করো… ঐ যে কি যেন বলে না একজন আরেকজন কে”| আমার
বুঝতে বাকি রইলো না যে ও আমাকে দিয়ে কি বলাতে চায়! ওর মুখে আমার নামের উচ্চারণ
শুনলেই তো আমার কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে যায়… আমি সেখানে একটা মেয়ে হয়ে কিভাবে ওকে
এই কথাটা বলি!? আমি অনেক “না না” করলাম পর… অনেক ঢং করলাম …ও আমাকে বললো, “বলো
না একটু শুনি, দেখি কেমন লাগে!?” সব লজ্জার ডোর ছিড়ে বলেই ফেললাম… “I love
you”… এত speed এ বলেছিলাম যে নিজেই বুঝতে পারিনি যে ও বুঝলো কিনা! বলেই ওকে
কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন রেখে দিলাম| সেই রাত অনেক লম্বা ছিল… ঘুম-ই আসলোনা
!
২৩ অগাস্ট ২০০৮… রাত ১২টার বেশি বাজে… অর্থাৎ ২৪ অগাস্ট ২০০৮… খুব ভয়ে ভয়ে
লজ্জায় লজ্জায় ওর ফোন ধরলাম| আবারো ও শুনতে চাইলো… এবারো অনেক ঢং করার পর বললাম…
এবার ও শুনতে চাইলো পর পর তিনবার… আমিও লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বলে দিলাম| মনের
ভেতরটায় অদ্ভূত একটা ব্যথা অনুভব করলাম এই মনে করে যে “তুমি কি একবারও বলবা না?”
আমি যখন এই চিন্তায় মগ্ন তখন আচমকা কানে বেজে উঠলো ওর কণ্ঠস্বর… “অনু, তুমি
আমাকে মারবা!” জানিনা কোথ্থেকে এক ফোঁটা অশ্রু চোখের কোণে আশ্রয় নিল| ভাবলাম…
তাহলে কি ফুরালো আমার তিন বছর ছয় মাসের অপেক্ষার প্রহর? আমি যখন আবারো ভাবনায়
মগ্ন তখন আবার আচমকা কানে বেজে উঠলো ওর কণ্ঠস্বর… “ANU, I LOVE
YOU”…………………………………… মনে হলো আমার কর্ণ কপাট ভেদ করে সুমধুর সুর প্রবেশ করলো|
মনে হলো কেউ আমায় প্রেমের অমৃত সুধা গলধিকরণ করালো| আর সেই কেউ… আমার সানিয়াত
মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন|
এখন ও আমাকে মাঝে মাঝে বলে, “তখনই (কলেজে পড়ার সময়) তোমার weakness টা সামনে
আনতা, তাহলে আর এতদিন একা থাকতে হতো না… অবশ্য আমারই দোষ… আমি তখনই লাই দিলে
তখনই এটা সামনে আসতো|” ওকে jealous feel করানোর কথা উঠলে বলে, “আমি তো জানতাম
তুমি কি চাইতা... আর জানতাম বলেই jealous হতাম না আর তুমি আরো বেশি জ্বলতা… খুব
মজা লাগতো!” ফাজিল কোথাকার!
তারপর কত ঝড় ঝাপটা গেল… দুজনের পরিবারে জানাজানি হলো| ওর মা-বাবা খুব সহজেই
মেনে নিলেন| আর আমার মা-বাবা ছিলেন প্রচন্ড প্রেম বিরোধী ছিলেন| কিন্তু আমরা
কোনোভাবেই হাল ছাড়িনি| আমরা জানতাম, আমার বাবা আমাকে প্রচন্ড ভালবাসেন… তাই
তিনি অপরিচিত একজনের হাতে মেয়েকে তুলে দিতে ভয় পাচ্ছিলেন| মা-বাবা ওর সাথে দেখা
করলেন… কথা বললেন… Impressed হলেন|
তারপর আর কি! তারপর…. এক সাথে পথ চলা… মাঝে মাঝে একটু একটু ভালবাসার ঝগড়া…
তারচেয়েও অনেক অনেক বেশি… সবকিছুর ঊর্ধে শুধুই আমাদের ভালবাসা
Subscribe to:
Posts (Atom)



















