তো , তোমার গার্লফ্রেন্ড কেমন আছে ? ----হুম । ভালই । ওকে প্রায়ই
তোমার কথা বলি । ----কি বলো ? ----বলি যে শুভ্রা নামের আমার
এক ভাল বন্ধু আছে । খুব ভাল বন্ধু । ----তুমিতো এখনও তার সাথে
আমার দেখাই করে দিলেনা ! ----আরে ,দিব দিব । সময় করে একদিন
দিব । ----ওহ । তাহলে এখন ওঠা যাক , চলো । . কথা গুলো শুভ্রা আর তার বন্ধু হাসান এর । একদিন এক বাসে দেখা হয়েছিল তাদের তারপর থেকে বন্ধুত্ব । হাসান শুভ্রাকে বন্ধুর মতই মনে করলেও শুভ্রা হাসানকে খুব ভালবাসে তবে এখনও বলতে পারেনি । হাসান খুব সাদাসিধে হলেও শুভ্রা একটু চন্ঞল
.তারপর একদিন হঠাত্ হাসান শুভ্রাকে ফোন করে বললো ----এই শুভ্রা , আজ বিকেলে একটু
আসবে ? ----কোথায় ? ----মসজিদের পিছনে । ---- কখন ? ----
বিকাল ৫ টায় । দেরি করোনা তাড়াতাড়ি এসো । ----আচ্ছা । কোনদিন দেখা করার আগে শুভ্রাই হাসানকে ফোন দিত । কিন্তু আজকে একটু ব্যতীক্রম । শুভ্রা আর অন্য কিছু ভাবতে পারলনা । সে দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে রেডি হয়ে নিল । তারপর ৪.৩০ টায় রিকশা ধরে শুভ্রা চলে গেল । যাওয়ার পর দেখে পাঁচটা বেজে গেছে । শুভ্রা রিকশাওয়ালাকে টাকা দিয়ে বিদায় করতেই হাসান এক কোন থেকে বেরিয়ে এলো । বলল_ -এত দেরি ? ---আর বলোনা , রাস্তায় এত জ্যাম যে ঠিক সময় আসতে পারিনি । ---its ok . চলো । ---কোথায় ---আরে , আমার উপর বিশ্বাস রাখো । চলো বলেই হাসান শুভ্রার হাত ধরে টেনে মসজিতের পাশে কবরস্থানে নিয়ে গেল । হাতের ডানে তিন নম্বর কবরের পাশে থামলো হাসান । তারপর পকেট থেকে দুটো আগরবাতী বের করে জ্বালিয়ে দিল কবরের পাশে । হাসান হাটু গেড়ে বসল আর কবরের মাথায় হাত বোলাতে লাগল । ঠিক যেমন কোন মা তার সন্তানকে কোলে শুইয়ে দিয়ে তার কপালে হাত বুলিয়ে দেয় । শুভ্রা এতক্ষণ এসব দেখছিল । একসময় হাসানের পাগলামীতে বিরক্ত হয়ে বলল _ ----কি হচ্ছে এসব ? কি শুরু করেছো তুমি ? ওঠো বলছি । ওঠো । ---চুপপপপপ । সিসসসসস ।কথা
বলোনা , অর্পা ঘুমোচ্ছে . . . . . . . .। শুভ্রা নামটা শুনেই আঁতকে উঠলো । কারণ অর্পা হলো হাসানের গার্লফ্রেন্ডের নাম । শুভ্রাও বসে গেল । হাসানের দিকে আঁড় চোখে তাকিয়ে নীরবে চোখের এক কোনায় অশ্রু ফেলতে লাগলো । এলমেলো চুলগুলোকেও সরানোর হুঁশ পেলোনা সে । তারপর হাসান বলতে লাগলো . . . ----অর্পা , এই অর্পা , এই । ওঠো । দেখো কাকে নিয়ে এসেছি । ঐ যে তোমাকে বলেছি না ,
যে শুভ্রা নামের এক ভাল বন্ধু আছে আমার । দেখো ও তোমার সাথে
দেখা করতে চায় । এই ওঠোনা । ওঠো । শুভ্রা নীরবে অশ্রু ফেলেই অঝোর নয়নে কেঁদেই চলেছে ।।।। হাসান অর্পা অর্পা করে ডেকেই যাচ্ছে । কোন সাড়া নেই । এক সময় চিত্কার দিয়ে শুভ্রা বলে উঠলো হাসান , কি
হচ্ছে ? অর্পা মারা গেছে । এটা শুধুই তার কবর মাত্র । বলেই শুভ্রা দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগলো । হাসান চিত্কার দিয়ে বলতে লাগলো _নাআআআআ । অর্পা মরেনি । অর্পা
মরবেনা । কে বলেছে অর্পা মারা গেছে । অর্পা ঘুমোচ্ছে । কেন তুমি
চিত্কার করে ওকে জাগানোর চেষ্টা করছো ? ও আমাকে ভালবাসে
আর আমিও তোমাকে ভালবাসি । আর আমার ভালবাসা কখনও
মরতে পারেনা । পৃথিবীর সবাই মারা গেলেও আমি অর্পার মুত্যুকে
বিশ্বাস করিনা । অর্পা মরেনি । তুমি মিথ্যা বলছো । মিথ্যা বলছো । একথা বলেই হাসান বুকে হাত রেখে জোর অর্পার নাম ডেকে চিত্কার মেরে উঠলো । শুভ্রা শেষবারের মত হাসানের দিকে তাকিয়ে
বলল - হাসান আই লাভ ইউ , আই লাভ ইউ । হাসান এবার চিত্কার মেরে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেল । . . . . .ambulance . . . . .is . . . . . . .called . . . . . . . . . তিন ঘন্টা পর . . . . . . . . হাসপাতালের বেডে হাসানের পাশে শুভ্রা বসে আছে ।হাতে রাখা গ্রাসটা রেখে শুভ্রা জিজ্ঞেস করলো ---- এখন কেমন লাগছে ? । কোন কথার উত্তর না দিয়েই হাসান প্রশ্ন করো ---- শুভ্রা একটা কথা বলি ? ---- বলো . ----
আমি যে এখন হাসপাতালে এই খবরটা প্লিজ অর্পাকে দিওনা । ও
শুনলে হয়তো সত্যিই কষ্ট পাবে । শুভ্রা এবার শব্দ করে কেঁদে উঠলো । বলল---- তুমি
অর্পাকে ভুলে যাও । অর্পা মারা গেছে । হাসান আবার জোরে দিয়ে বলল ---- না ।
অর্পা তুমি মরনি . একথা আমি জানি অর্পা । তুমি যেখানেই যাও
আমার ভালবাসা থেকে দুরে থাকতে পারবেনা কোনদিনও । অর্পা
তুমি
ফিরে এসো । ফিরে এসো জান ।

No comments:
Post a Comment